সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক ও প্রত্যর্পণ (বন্দি বিনিময়) চুক্তির আওতায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মুখোমুখি করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে মূলত নিম্নলিখিত আইনি ও কূটনৈতিক ধাপগুলো অনুসরণ করা হবে:

১. বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির (Extradition Treaty) প্রয়োগবিদ্যমান চুক্তি:

বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশন চুক্তি রয়েছে।আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব: এই চুক্তির আওতায় স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস হয়ে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে বেনজীর আহমেদকে ফেরত চেয়ে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রস্তাব পাঠানো হবে।

২. কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগচিঠি ও নথিপত্র চালাচালি:

গত ১২ জুন আবুধাবির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুদকের মামলার চার্জশিট, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে।

৩. দুবাইয়ের স্থানীয় আদালতের আইনি প্রক্রিয়াপ্রত্যর্পণ শুনানি:

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, দুবাই পুলিশ বেনজীর আহমেদকে আটক করলেও তাকে সরাসরি বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে পারবে না। দুবাইয়ের স্থানীয় আদালতে একটি প্রত্যর্পণ শুনানি হবে।যাচাই-বাছাই: সেখানে দুবাইয়ের আদালত খতিয়ে দেখবে যে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে হওয়া মামলাটি রাজনৈতিক নাকি প্রকৃত অপরাধমূলক (যেমন: দুর্নীতি বা অর্থ পাচার)। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও চার্জশিট থাকায় এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশের পক্ষে সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৪. ইন্টারপোলের সমন্বয় রক্ষারেড নোটিশের ধারাবাহিকতা:

যেহেতু ঢাকার আদালতের নির্দেশে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল, তাই বাংলাদেশ পুলিশ সদরদপ্তর ও ইন্টারপোলের ঢাকা শাখা (NCB) সার্বক্ষণিক দুবাই পুলিশের সাথে লিয়াজো বজায় রাখবে। আদালতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া অনুমোদিত হওয়ার পর ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।

দুদক এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের আইনি দল ইতিমধ্যে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র গোছানোর কাজ শুরু করেছে।