জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন যে, দেশ স্বাধীনের পর যাদের দায়িত্ব ছিল তারা সঠিকভাবে শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন না করে সেটিকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করেনি।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংসদদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার শিকার ও শহীদদের তালিকা করতে গিয়ে অতীতে রাজনীতি টেনে আনা হয়েছিল। দেশ স্বাধীনের পর সঠিক ও নিরপেক্ষ তালিকা তৈরির পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় তালিকা করা হয়েছিল এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে এই তালিকা তৈরিতে নানাবিধ জটিলতা তৈরি হয়।
তিনি জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে যে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের একটি পবিত্র দায়িত্ব রয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছিলেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকাল ৩টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নকাল। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিল সাতটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন। এরমধ্যে তিনি নির্ধারিত সময়ে তিনটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও এই সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের একটি নির্ভুল, সর্বজনগ্রাহ্য ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নে কাজ শুরু করেছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে গবেষক এবং অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, জাল বা ভুয়া নাম বাদ দিয়ে একটি স্বচ্ছ তালিকা উপহার দিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের সঠিক তালিকা নিশ্চিত করবে।