মেরিনোর ম্যাজিকে বেলজিয়ামকে বিদায় জানিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেমিফাইনালে উঠেছে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দেশটি। চারদিন আগে পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে শেষদিকে বদলি নেমে লক্ষ্যভেদ করে স্পেনকে জিতিয়েছিলেন মিকেল মেরিনো। এবারও একইভাবে ডাগআউট থেকে মাঠে ঢুকে ব্যবধান গড়ে দিলেন আর্সেনালের এ মিডফিল্ডার। তার অন্তিম সময়ের জয়সূচক গোলে বেলজিয়ামকে বিদায় করে সেমিফাইনালের টিকিট কাটল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। ২০১০ সালে একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের দীর্ঘ ১৬ বছর পর এই প্রথম সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল লা রোহারা। ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব এবং পরবর্তী দুই আসরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর এবার তাদের সামনে শিরোপা পুনরুদ্ধারের হাতছানি। তবে ফাইনালের টিকিট পেতে আগামী মঙ্গলবার রাতে ডালাসে তাদের দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা, যেখানে স্পেনের প্রতিপক্ষ টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্নে বিভোর থাকা শক্তিশালী ফ্রান্স।

শুক্রবার রাতের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্পেন। ম্যাচের ৬৮ শতাংশ সময় বল পায়ে রেখে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে তটস্থ রাখে রদ্রি-ইয়ামালরা। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে প্রথম লিড নেয় স্পেন। পেদ্রো পোরো ও লামিন ইয়ামালের দারুণ বোঝাপড়ার পর পোরোর কাটব্যাক থেকে দানি ওলমো শট নেন। বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া তা ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ফাবিয়ান রুইজ। তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি বেলজিয়াম। ৪১তম মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনার পাস থেকে বল পেয়ে টিমোথি কাস্টানিয়া দারুণ এক ক্রস বাড়ান। ডি-বক্সে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসিকে ছিটকে ফেলে চোখধাঁধানো হেডে বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান চার্লস ডি কেটেলারে। চলতি বিশ্বকাপে এটিই স্পেনের জালে ঢোকা প্রথম গোল, যার ফলে রেকর্ড টানা ৬৪৯ মিনিট পর বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল হজম করতে হলো স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনকে।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললে ম্যাচ আরও উন্মুক্ত হয়ে ওঠে। বেলজিয়ামের ডাগআউট থেকে অভিজ্ঞ রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামানো হলেও ৭১তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় তারা। উরুতে চোট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক কোর্তোয়া। তার জায়গায় এইকঠিন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় ২৪ বছর বয়সি তরুণ গোলরক্ষক সেনে লামেন্সের। এই অভিষেকই শেষ পর্যন্ত লামেন্সের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। ম্যাচের বয়স যখন ৮৬ মিনিট, তখন মাঠে নামেন মিকেল মেরিনো। এর ঠিক দুই মিনিট পর, অর্থাৎ ৮৮তম মিনিটে কুবারসির দূরপাল্লার শট ঠিকমতো গ্লাভসব›ীদ করতে ব্যর্থ হন তরুণ বেলজিয়াম গোলরক্ষক। সে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা সুযোগসন্ধানী মেরিনো চলন্ত বলে জোরালো শটে জাল কাঁপিয়ে স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে বেলজিয়াম। অ্যালেক্সিস সালেমেকারস ফাঁকা গোলপোস্টের সামনে থাকা লুকাকুকে বল পাস দিতে ব্যর্থ হলে শেষ হয়ে যায় বেলজিয়ামের ঘুরে দাঁড়ানোর সব আশা। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠজুড়ে যখন স্পেনের জয়োৎসব, তখন বেলজিয়ামের বুড়িয়ে যাওয়া সোনালি প্রজন্মের ফুটবলারদের স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে, কোয়ার্টার ফাইনালের এই রোমাঞ্চকর জয় উদযাপন শেষে এখন ফ্রান্সের বিপক্ষে আসন্ন মহারণ নিয়ে ছক কষতে শুরু করেছে দে লা ফুয়েন্তের দল।